NewTown Homeo Hall নিউটাউন হোমিও হল আইবিএস, আইবিডি, প্যানক্রিয়াটাইটিস, পিত্তথলির প্রদাহ ও পাথর, পুরাতন রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র
➤ নিউ টাউন আবাসিক এলাকা, মাহমুদ নগর মেইন রোড, সাইনবোর্ড, ডেমরা, ঢাকা
➤ ফোন: +৮৮ ০১৯৭৭-৬০২০০৪ এবং ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪
➤ যোগাযোগ: সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা (শুক্রবার বন্ধ)
➤ শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য ফোনে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ

সাম্প্রতিক আপডেট

শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

প্যানক্রিয়াটাইটিস হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ফলাফল কখন কেমন?

প্যানক্রিয়াটাইটিস একিউট এবং ক্রনিক অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ফলাফল কখন কেমন হয়ে থাকে এ সম্পর্কে থাকছে আজকের আলোচনায়। ইতিপূর্বে অগ্নাশয়ের প্রদাহে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষের চিকিৎসা দিয়েছি যাদের কেউ কেউ একিউট কন্ডিশনেই আমার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। আমার অভিজ্ঞতা থেকে যা দেখলাম মেডিসিন প্রয়োগের ১ সপ্তাহের মধ্যেই পেটের ব্যথার মতো জটিল উপসর্গটি দূর হয়ে যায় এবং টানা ৮/৯ মাস ঔষধ প্রয়োগ করার পর তাদের কাউকেই আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আল্হামদুলিল্লাহ।
বলতেই হয়, এমন সৌভাগ্য হয়তো সবার হয় না। কারণ একিউট কন্ডিশনে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক পেশেন্ট আমাদের মতো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অধিকাংশই নেহায়েৎ গরিব শ্রেনীর মানুষ এই যেমনঃ ট্রাক ড্রাইভার, গরিব গৃহবধূ, মাদ্রসার শিক্ষক। হয়তো আল্লাহ পাক এই গরীপনা দিয়েই এই ক্ষেত্রে তাদের সৌভাগ্যবান করেছেন।
টাকা পয়সা থাকলে হয়তো দেশ বিদেশের নামী ডাক্তারদের পেছনে বছর বছর ধরে ঘুরে বেড়াতেন অযথাই। কারণ এই রোগের ভালো কোন এলোপ্যাথিক ম্যানেজমেন্ট নেই - জেনে রাখুন। এভাবে বছর বছর ধরে পুষে পুষে রোগের ক্রনিক অবস্থায় আরো জটিল জটিল সম্পর্কযুক্ত সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে এই যেমনঃ সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, সিউডোসিস্টের গঠন, কিডনি বিকল হওয়া, শ্বাসকষ্ট, অগ্ন্যাশয় পাথর বা প্যানক্রিয়াটিক স্টোন, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার ইত্যাদি।
প্যানক্রিয়াটাইটিস হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ফলাফল কখন কেমন
চিকিৎসা নিতে নিতে বহু বছর পর (৫ বছর বা ১৫ বছর পর) এক সময় হোমিওপ্যাথির কথা মনে পড়ে। শেষ চিকিৎসা হিসেবে কোন এক হোমিও চিকিৎসকের কাছে যায় চিকিৎসা নিতে। ততদিনে রোগের কি জটিল অবস্থা দাঁড়ায় একবার ভেবে দেখুন। দীর্ঘ দিনের পুরাতন রোগ এবং এর সাথে সম্পর্কযুক্ত নানা  জটিল সমস্যা এই যেমনঃ সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, সিউডোসিস্টের গঠন, কিডনির  সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, অগ্ন্যাশয় পাথর বা প্যানক্রিয়াটিক স্টোন ইত্যাদি যখন প্রকাশ পায় তখন সব মিলিয়ে কি পরিস্থিতি দাঁড়ায় একবার ভেবে দেখুন। 

যাই হোক তাতেও তেমন সমস্যা নেই। হোমিওপ্যাথি আপনাকে নিরাশ করবে না। তবে ক্রনিক অবস্থায় আপনাকেও ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। আমার চিকিৎসা অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ব্যথার মতো জটিল উপসর্গ হয়তো সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই কমে আসবে কিন্তু দীর্ঘদিনের তৈরী হওয়া রোগের তীব্রতা ভেতরে থেকে দূর হতে প্রায় দু'তিন বছর সময়ও লেগে যায় কিছু পেশেন্টের ক্ষেত্রে। আবার ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিদিন মাত্র একবার ঔষধ প্রয়োগ করে একেবারে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনা যায়। আর এটি ঘটে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে।
পরিশেষে যে কথাটি বলবো, এই রকম বেদনাদায়ক জটিল ব্যাধিতে কেউ আক্রান্ত হোক এটা কারো কাম্য নয়। দুৰ্ভাগ্যবশতঃ যদি কেউ প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং এই সক্রান্ত জটিল পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে কাল বিলম্ব না করে একজন অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন আশা করি সুফল পাবেন। 
এই রোগের হোমিওপ্যাথি ছাড়া উন্নত কোন স্থায়ী ম্যানেজমেন্ট নেই আগেই বলেছি। তাই বাংলাদেশ ভারত কেন সুদূর ইউরুপ আমেরিকাতে গিয়ে এলোপ্যাথিক ডাক্তার দেখালেও কোন স্থায়ী সুফল পাবেন না, কথাটি মনে রাখবেন তাতে আপনার অর্থ ও সময় দুটিই বাঁচবে। 
Read More...

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আইবিএস কি মানসিক সমস্যা? ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম IBS

ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস জনিত পেটের কিছু উপসর্গ এবং মানসিক চাপএকই সময়ে প্রকাশ পেলেও IBS কিন্তু আদৌ কোন মানুষিক সমস্যা নয়। মূলতঃ হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য প্যাথির চিকিৎসকরা আইবিএস সমস্যার ঠিকঠাক চিকিৎসা দিতে না পেরে এটিকে একটি মানসিক সমস্যা বলে রোগীদের বিভ্রান্ত করে থাকে। 

এক সময় বিসদৃশ প্যাথির চিকিৎসকগণ আইবিএস সমস্যাকে পেটের এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ বলে অবহিত করতো। কিন্তু কিছুকাল পরে জানা গেল এর সাথে ব্যাকটেরিয়ার আদৌ কোন সংযোগ নেই। বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও এর কোন কারণ বের করতে না পেরে অবশেষে এখন এটিকে পেটের বা অন্ত্রের একটি ফাংশনাল ডিসঅর্ডার বলে অবহিত করে থাকে।
আইবিএস কি মানসিক সমস্যা
আগেই বলেছি বিভিন্ন প্যাথির ডাক্তাররা সুচিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে আইবিএস সমস্যায় আক্রান্তদের মানসিক রোগী হিসেবে সাব্যস্থ করলেও হোমিওপ্যাথি কিন্তু এই সমস্যার সুচিকিৎসা নিশ্চত করে রেখেছে শত বছর পূর্বেই। পেটের কিছু উপসর্গ মানসিক চাপে বাড়লেও এটিকে কখনোই মানুষিক সমস্যা বলা যাবে না আবার মানুষিক কারণে পেটের পীড়া বাড়ে বিষয়টি কিন্তু তাও নয়। আশংখা, উদ্বেগ, দুঃশ্চিন্তা, ভয়, বিষণ্ণতা এসবের সাথে পরিপাক ক্রিয়ার সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয় না। তবে আমরা যখন রোগাক্রান্ত হই আমাদের শরীরে বাহির দিকে যেমন বিভিন্ন লক্ষণ উপসর্গ প্রকাশ পায় ঠিক তেমনই আমাদের মনেও বিভিন্ন লক্ষণ উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।

অর্থাৎ আপনার ডিএনএ তে বিদ্যমান যে জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালস আপনার পেটের পীড়া সৃষ্টি করেছে ঠিক একই কারণে আপনার মনেও কিছু ডিসঅর্ডার তৈরী হয়েছে। অর্থাৎ মনো-দৈহিক বিভিন্ন লক্ষণ উপসর্গ সৃষ্টির পেছনে একই কারণ বিদ্যমান থাকে। আর আমরা বিভিন্ন ক্রনিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমাদেরই ডিএনএ তে বিদ্যমান বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালস এর প্রকটতায়। যা বিভিন্ন কারণে বিকশিত হয়ে ভাইটাল ফোর্সের দুর্বলতম অবস্থায় আমাদের দেহ মনে অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে বিভিন্ন রোগ লক্ষণ জাগিয়ে তুলে। ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম IBS তেমনই একটি সমস্যা যা আদৌ কোন মানসিক রোগ নয়।

হোমিওপ্যাথি যেহেতু একটি মানুষের সার্বিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা করে ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকে তাই প্রকৃত আরোগ্য লাভে কিছুটা সময় লাগলেও অধিকাংশ রোগীরাই নির্মল আরোগ্য লাভ করে বিধায় দেহ-মন সর্বদিক থেকেই সে ভালো থাকে - যাকে বলে সুস্বাস্থ্য।
Read More...

শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আইবিএস হলে কি কি সমস্যা হয়? IBS এর মনোদৈহিক উপসর্গ

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম আইবিএস যদি কোন কারণে কারো শরীরে জেগে উঠে তাহলে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন IBS রোগী সরাসরি প্ৰশ্ন করে বসেন - স্যার আমি আইবিএস সমস্যায় আক্রন্ত আমি কি বিয়ে করতে পারবো? দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে মনোদৈহিক নানা দুর্বলতার মধ্যে কিছু কিছু IBS রোগীদের মধ্যে যৌন দুর্বলতাও প্রকট থাকে। তাই তাদের মধ্যে এই রকম প্রশ্ন আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু মনে রাখা উচিত, আইবিএস পেশেন্টদের বিয়ে করতে কোন বাধা নেই। প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আইবিএস এর জটিল উপসর্গগুলি কমে আসলে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে কোন সমস্যাই হয় না। এবার আসুন আইবিএস হলে ব্যক্তিভেদে কি কি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে সেগুলি জেনে নিই-

পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়াযুক্ত আইবিএস সমস্যায় যেকোন সময় হঠাৎ করেই টয়লেটের বেগ আসতে পারে। আপনি তৈরী হয়ে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হচ্ছেন ঠিক সেই মুহূর্তে পায়খানার বেগ চাপতে পারে। গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছেন যেকোন সময় পায়খানার বেগ চাপতে পারে আর সেই ভয়ে গাড়িতে চড়তে দারুন অসুবিধা হয়ে দাঁড়ায়। 
আইবিএস IBS হলে কি কি সমস্যা হয় ?
কারো কারো অতি ভোরে টয়লেটের চাপে ঘুম পর্যন্ত ভেঙে যায় আর সেই মুহূর্তে টয়লেটে না যেয়ে কোন উপায়ও থাকে না। কিছু কিছু পেশেন্টের ক্ষেত্রে মানুষিক চাপ নিলে বা পরীক্ষার সময় এই উপসর্গগুলি প্রকট ভাবে দেখা দেয়। তাই নানা প্রকার অস্বস্তির পাশাপাশি এই বিব্রতকর লক্ষণ বা উপসর্গগুলি তাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলে। কারো কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা জেগে উঠে। কারো মল নরম কিন্তু পরিষ্কার হয় না। কিছু কিছু পেশেন্টকে আবার আঙ্গুল দিয়ে মল বের করতে হয়।

আইবিএস সমস্যায় রোগাক্রান্ত প্রায় প্রত্যেকেরই পেটে ব্যথা অথবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিল কিছু উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। ব্যথার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোন কারণে মানুষিক চাপ নিলে এবং নির্দিষ্ট কিছু খাবার গ্রহণ করলে সাধারণত এই উপসর্গগুলি বেড়ে যায় যা ভুক্তভূগীকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ক্ষেত্রে দারুন অসুবিধায় ফেলে দিয়ে থাকে।

কিছু কিছু আইবিএস পেশেন্টদের পেট ফুলে থাকা বা ফেঁপে থাকার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। কারো ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পরই পেট ফেঁপে উঠে আবার কারো কারো এমনিতেই বিকালের দিকে পেটে গ্যাস জমে পেট ফুলে উঠে সাথে থাকে বিরক্তিকর অস্বস্তি।

আইবিএস সমস্যায় আক্রান্ত কিছু কিছু পেশেন্টদের পিঠে বা কোমরের দিকে ব্যথা হতে পারে যার কারণ কোন মেডিক্যাল টেস্ট করেই ধরা পড়ে না। পেট ফুলে থাকা বা ফেঁপে থাকার পাশাপাশি অতি দুর্বল কিছু আইবিএস আক্রান্তদের পিঠে বা কোমরের দিকে ব্যথা হতে পারে।

কোন কোন আইবিএস রোগী প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাব ঠিক ঠাকভাবে পরিষ্কার না হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন। মূত্রথলীতে অতিরিক্ত চাপ এবং পূর্ণতা থেকে প্রস্রাবের এই সমস্যা আসতে পারে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানার উপসর্গ থেকেও অন্ত্রের অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে।

খুব কম রোগীদের ক্ষেত্রে আরো যে সমস্যাটি দেখা যায় সেটি হলো - দেহ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হওয়া। এটি ব্যক্তিকে প্রায়শই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়ে থাকে বিশেষ করে যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে ঐ ব্যক্তি অস্বস্তিতে পড়ে যান।
আইবিএস সমস্যা কারো শরীরে জেগে উঠলে যে শারীরিক এবং মানসিক উপসর্গগুলি সৃষ্টি হয়ে থাকে সেগুলি ব্যক্তিকে কর্মবিমূখ করে তূলতে পারে, যার ফলে কর্মক্ষেত্রে বা নিজ বাড়িতে নানা কাজ কর্মে উৎসাহের অভাব দেখা দিতে পারে। আইবিএস এর কারণে এমন হয় জেনে অনেকেই আশ্চর্য হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, বহু ছাত্রছাত্রী তাদের পড়াশোনা বাদ দিতে বাধ্য হয়। বহু চাকরীজীবি তাদের চাকরি থেকে অকালেই অবসর নিতে বাধ্য হয়।
পরিশেষে যে কথাটি বলবো, এই রকম যন্ত্রণাদায়ক জটিল মনোদৈহিক সমস্যায় কেউ আক্রান্ত হোক এটা কারো কাম্য নয়। দুৰ্ভাগ্যবশতঃ কেউ যদি আইবিএস IBS এর মতো জটিল পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে কাল বিলম্ব না করে একজন অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন আশা করি সুফল পাবেন।
হোমিও চিকিৎসক আপনাকে চিকিৎসা দেয়ার সময় আপনার কনস্টিটিউশন অনুসারে ঔষধ বের করার জন্য আপনার হিস্ট্রি নিবেন সাথে আপনার শৈশবের জীবনদর্শন, আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন। তখন অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক বের করবেন আপনার ভেতরে প্রকৃত রোগের কি কি জেনেটিক মেটেরিয়াল আছে। তারপর ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগ করে সেগুলিকে প্রকট অবস্থা থেকে সুপ্তাবস্থায় পাঠাবেন এবং আপনার ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করে তুলবেন। তখন আপনার মধ্যে কোন রোগ জটিলতা থাকবে না এবং আপনি ভালো থাকবেন।
Read More...

বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২

আইবিএস IBS এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেয় হোমিও চিকিৎসকরা

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস Irritable bowel syndrome (IBS) পরিপাকতন্ত্রের একটি জটিল সমস্যা বলেই বিবেচনা করা হয়। বহু ক্রনিক ডিজিসের মতো এই সমস্যারও অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই কিন্তু যাথাযথভাবে রোগীর কেইস হিস্ট্রি নিয়ে চিকিৎসা দিলে আইবিএস সম্পূর্ণ নির্মূল হয় হোমিও চিকিৎসায়। তার মানে আবার এই না যে - আপনি একজন হোমিও ডাক্তারের কাছে গেলেন আর সাথে সাথেই ভালো হয়ে যাবেন। আইবিএস ট্রিটমেন্ট নেয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই সেরূপ দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথির নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে আপনার চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করবেন।

যখন আমার পেসেন্টদের জিজ্ঞেস করি কখন কিভাবে আপনার এই সমস্যা শুরু হয়েছে? তখন তারা যে কারণগুলির কথা বলে থাকেন সেগুলি মূলত এই সমস্যার প্রকৃত কারণ নয়। সুপারফিশিয়াল অর্থাৎ উপর দিকে চিন্তা করলে এটি মূলত অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার ত্রুটি জনিত একটি সমস্যা বলে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় এর কারণ হিসেবে নানা থিওরি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও কোন সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পেয়ে একে ফাংশনাল গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল ডিজঅর্ডার বলা হয়ে থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা যে অভিযোগ গুলি করে থাকেন -
  • স্যার এই সমস্যা আমি নিজে নিজে তৈরি করেছি। জীবনে কোন ব্যালান্স ছিল না। মাঝে মাঝে নেশাও করতাম। সেই যে ৫ বছর আগে পেটের সমস্যার শুরু এখনও চলছে।
  • কেউ বলছেন - সব সময় ভাজাপোড়া খাবার খেতাম। বাহিরে অনবরত খাওয়ার ফলে আমার এই সমস্যা হয়েছে।
  • কেউ বলছেন - দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। সেই সেদিন রাতে পাতলা পায়খানার সমস্যা হয় তারপর এলোপ্যাথিক ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খেয়ে পাতলা পায়খানা ঠিক হয়। কিন্তু তারপর থেকে আজ পর্যন্ত পেটের নানা সমস্যা লেগেই আছে।
  • কেউ বলছেন - একবার ভরপেট খাওয়ার পর হজমের জন্য ঔষধ খেয়েছিলাম। সেই থেকে সমস্যার শুরু।
  • কেউ বলছেন - সমস্যাটি আমার পিতারও আছে আর আমার বয়স যখন ১৫ তখন থেকে আমারও শুরু হয়।
  • কেউ বলছেন - স্যার আমার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ত্রুটি আছে তাই আমি আইবিএস সমস্যায় ভুগছি।
  • কেউ বলছেন - আমার মা বলেছেন, জন্মের পর থেকেই আমার এই সমস্যা। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু কাজ হয়নি। 
কোন কোন চিকিৎসা বিজ্ঞানী বলছেন - খাবার পাকস্থলী থেকে পরিপাকনালীর মধ্য দিয়ে বৃহদন্ত্রের শেষ অংশ বা মলাশয়ে যাওয়ার সময় অন্ত্রের প্রাচীর একটি নির্দিষ্ট ছন্দে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই সংকোচন-প্রসারণ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত হলে পেটে গ্যাস হয়, পেট ফেঁপে যায় এবং ডায়রিয়া হয়। আবার অন্ত্রের এই সংকোচন-প্রসারণ যদি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে পড়ে তাহলে মল শক্ত হয়ে যায় অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত আইবিএস তৈরী হয়।
আইবিএস IBS এর প্রকৃত কারণ
কোন কোন চিকিৎসক বলছেন - আপনার সমস্যা হরমোনজনিত, অন্ত্রের প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন, দুশ্চিন্তা ও হতাশা অথবা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল নার্ভাস সিস্টেমের অস্বাভাবিকতার কারণেও এই রোগ হতে পারে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সবই ঠিক, কিন্তু চিকিৎসা দিয়ে ঠিক করা যাচ্ছে না কেন?

বস্তুত এরকম বহু সুপারফিশিয়াল চিন্তা ভাবনা করে কারণ খুজার চেষ্টা করে থাকেন চিকিৎসক এবং রোগীরা। অথচ এর কোনটিই আইবিএস সমস্যাটির মূল কারণ নয়। এর প্রকৃত কারণ জানতে হলে আপনাকে আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করতে হবে যা একমাত্র করতে পারে বিশ্বের একটি মাত্র ট্রিটমেন্ট সিস্টেম - হোমিওপ্যাথি।

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম আইবিএস এর প্রকৃত কারণ মূলতঃ কি?

আগেই বলেছি নানা প্রকার সুপারফিশিয়াল বা উপরি উপরি চিন্তা করে অথবা নানা প্রকার ব্যর্থ মেডিক্যাল টেস্ট করে আইবিএস সমস্যার কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়ে থাকে আর সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে বিসদৃশ চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষ করে এলোপ্যাথিতে। কিন্তু এক্ষেত্রে আইবিএস কখনও নির্মূল করা সম্ভব হয়না সাময়িক আরাম পাওয়া যায় মাত্র। এলোপ্যাথিক সিস্টেমে মূলত রোগের কারণ নির্ণয় করেই চিকিৎসা দেয়া হয়। 

তাই কারণ না পেলে বিসদৃশ প্যাথিতে রোগের চিকিৎসাও হয় না ঠিক ঠাক ভাবে। যেহেতু এলোপ্যাথিসহ অন্যান্য প্রায় সব বিসদৃশ চিকিৎসা শাস্ত্রে উপরি উপরি অর্থাৎ ঐ স্থানের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করে আইবিএস এর চিকিৎসা দেয়া হয় তাই সাময়িক একটু উপশম ছাড়া রোগ আদৌ নির্মূল হয় না। যেমন পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তাৎক্ষনিক ভাবে সেটা ঠিক করার ঔষধ দেয়া হয়। সমস্যা সাময়িক ঠিক হয়ে রোগী আরাম পায় বটে কিন্তু ঔষধ না খেলেই সমস্যা আবার দেখা দেয়।
এর প্রধান কারণ হলো আপনি মূলত একটি প্রকৃত রোগের সৃষ্ট কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ ঠিক করার চিকিৎসা করছেন। তাই লক্ষণ ঠিক হচ্ছে কিন্তু প্রকৃত রোগের চিকিৎসা না হওয়ায় লক্ষণ বা উপসর্গ আবার প্রকাশ পাচ্ছে আর ভেতরের প্রকৃত রোগ বা True Disease দিন দিন আরো জটিল হচ্ছে। সেই প্রকৃত রোগটি মূলত কি আর তা দূর করার উপায়ই বা কি? এ সম্পর্কে বর্তমান বিশ্বের একটি মাত্র চিকিৎসা শাস্ত্রই ধারণা দিয়ে থাকে তা হল - হোমিওপ্যাথি
উদাহরণস্বরূপ মনে করুন, শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলনে ঘন্টা খানেক হলো একটি জাইগোট তৈরি হয়েছে। সেখানে রয়েছে তার পিতা মাতা উভয়ের থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোজোম যা হচ্ছে বংশগতির প্রধান উপাদান। মজার ব্যাপার হলো জাইগোটটির বয়স ১ ঘন্টা হলেও তার ভাইটাল ফোর্সকে ঘিরে যে ক্রোমোজোম এর অনুলিপি রয়েছে তার বয়স কিন্তু কয়েক লক্ষ বছর অর্থ্যাৎ এই অনুলিপি ধারাবাহিকভাবে লক্ষাধিক বছরের পুরাতন জেনেটিক মেটেরিয়ালসও বহন করছে। 

এর মাধ্যমেই আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা তারও পূর্ব পুরুষ থেকে সকল রোগের জেনেটিক মেটেরিয়াল অর্জন করে রেখেছেন জন্ম থেকেই। এই রোগগুলির সবকটি সরাসরি আপনার মধ্যে হয়তো প্রকাশিত হবে না। তবে যেটির জেনেটিক মেটেরিয়াল প্রকট থাকবে সেটি নানা প্রকার উপসর্গ প্রকাশ করে আপনাকে কষ্ট দিতে থাকবে, যতদিন না আপনি প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে সেটিকে ঠিক করেছেন।

তাছাড়া যতদিন আপনার ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী অবস্থায় থাকবে তত দিন ভেতরের প্রকৃত রোগটি বা অনেকগুলি জটিল রোগের জেনেটিক মেটেরিয়াল এমনিতেই নিস্তেজ অবস্থায় থাকবে। আর যখন ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে যাবে তখন ভেতরের সেই True Disease বা প্রকৃত রোগটি প্রকট হয়ে উঠবে অথবা নানা প্রকার উপসর্গ প্রকাশ করে আপনাকে কষ্ট দিবে।

মূলত সুপারফিশিয়াল বা উপরের দিক চিন্তা করে প্রকৃত রোগটির সৃষ্ট উপসর্গকে একটি রোগের নাম দিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা শাস্ত্র সেটিকে নির্মূল করার চেষ্টা করে থাকে। উপসর্গ চলে যায়, কিছুকাল পরে আবার সেই উপসর্গ প্রকাশ পায় বা সেটি নতুন উপসর্গ নিয়ে অন্যভাবে প্রকাশ পায়। কারণ ভেতরের প্রকৃত রোগটি নিয়ে মোটেও চিন্তা করে না এলোপ্যাথিক এবং অন্যান্য ট্রিটমেন্ট সিস্টেম আর তাই সমস্যাও দূর হয় না স্থায়ী ভাবে। ঔষধ খেয়ে খেয়ে ভাল থাকার চেষ্টা করা হয় মাত্র। ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) তেমনি একটি True Disease বা প্রকৃত রোগের কিছু উপসর্গ মাত্র।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত নানা রোগ ব্যাধিতে ভুগতে থাকা পূর্বপুরুষের জেনেটিক মেটেরিয়াল আপনি বহন করে চলেছেন। তারা কত প্রকারের স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন একটি বারও কি আপনি সেটা চিন্তা করেছেন? আদৌ না !

হোমিও চিকিৎসক আপনাকে চিকিৎসা দেয়ার সময় আপনার কনস্টিটিউশন অনুসারে ঔষধ বের করার জন্য আপনার হিস্ট্রি নিবেন সাথে আপনার শৈশবের জীবনদর্শন, আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন। তখন অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক বের করবেন আপনার ভেতরে প্রকৃত রোগের কি কি জেনেটিক মেটেরিয়াল আছে। তারপর ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগ করে সেগুলিকে প্রকট অবস্থা থেকে সুপ্তাবস্থায় পাঠাবেন এবং আপনার ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করে তুলবেন। তখন আপনার মধ্যে কোন রোগ জটিলতা থাকবে না এবং আপনি ভালো থাকবেন।

আসুন দেখি পেসেন্টরা কি কি মায়াজম অথবা কনস্টিটিউশনের হয়ে থাকে এবং সেগুলির ক্ষেত্রে কি কি মেডিসিন হতে পারে। এখানে মূলত আমি Synthesis Repertory রেপার্টরি থেকেই বিষয়টি আপনাদের দেখাচ্ছি-
ব্যক্তি স্বাতন্ত্র
কনস্টিটিউশন (Constitution) অনুসারে ঔষধগুলিও আপনারা দেখুন -
ব্যক্তি স্বাতন্ত্র অনুসারে হোমিও ঔষধ
হিস্ট্রি নেয়ার সময় দেখা যায় - কারো মা-বাবা, ভাই-বোন বা দাদা-দাদির যক্ষা বা টিবি হয়েছিল, কারো পিতা ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। কারো মা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, কোষ্টকাঠিন্যে ভুগছেন। কারো দাদা ক্যান্সারে মারা গেছেন। কারো নানার CVA (Cerebrovascular Accident) করে মারা যান। কেউ কেউ সরাসরি বলেন - সমস্যাটি আমার দাদারও ছিল আমারও আছে.... ইত্যাদি ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার বলেন একবার টাইফয়েড হয়েছিল আমার, তারপর থেকে সেই যে পেটের পীড়া হল কত ঔষধ খাই কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। আপনার নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিদ্যমান রোগ-ব্যাধিগুলি আপনার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগ বা সেগুলির জেনেটিক মেটেরিয়াল বিদ্যমান থাকার প্রকটতা সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে। আইবিএস সমস্যাটি মূলত সেই জেনেটিক মেটেরিয়াল দ্বারা সৃষ্ট উপসর্গ মাত্র।
৭০ শতাংশ আইবিএস রোগীদের মধ্যে মূলত Tubercular Diathesis প্রকট হয়ে থাকে। যা মূলত Psoric miasm এর Syphilitic miasm মিলিত হয়ে সৃষ্টি হয়।
অনেকেই আছেন নিজের অজ্ঞতা বসত হোমিওপ্যাথিকে বিসদৃশ প্যাথি যেমন এলোপ্যাথির মতো চিন্তা করেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ ও রোগের কারণ নির্ণয় করতে যেমন নানা প্রকার টেস্ট করতে হয় ঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর হিস্ট্রি নেয়ার জন্য কেইস টেকিং জরুরী।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নেয়ার সময় আপনি যদি চিকিৎসককে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাহায্য না করেন তাহলে চিকিৎসক আপনাকে ঠিকঠাক ভাবে চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হতে পারেন। কারণ একজন হোমিও চিকিৎসক আপনার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আপনাকে পর্যালোচনা করে সামনে আগাবেন এবং ঔষধ সিলেকশন করবেন। সব ঠিক থাকলে আইবিএস এর মতো সকল জটিল পীড়াতেই আপনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে স্থায়ী আরোগ্য লাভ করবেন ইনশা-আল্লাহ।
Read More...

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০২২

আইবিএস কি? IBS হলে দেহ মনে কি কি লক্ষন প্রকাশ পেতে পারে

আইবিএস হচ্ছে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম Irritable bowel syndrome (IBS) এটি মূলত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের একটি জটিল সমস্যা। আপনি হয়তো দেখে থাকবেন আপনার আশপাশে অনেকেই পেটের এই বিরক্তিকর সমস্যায় ভুগছে। এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত দীর্ঘদিন কষ্ট পেয়ে থাকেন। এলোপ্যাথিতে আইবিএস এর স্থায়ী চিকিৎসা না থাকায় ব্যর্থ হয়ে একের পর এক চিকিৎসক পরিবর্তন করতে থাকেন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়। 

কিন্তু তাদের অনেকেই জানেন না এই রোগ থেকে মুক্তির একটি কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এর জন্য দক্ষ একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক খুঁজে বের করে ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিলে ধীরে ধীরে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোগ আরোগ্য বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে থাকে যার উপর ভিত্তি করে কেউ দ্রুত সুস্থ হয় আবার কেউ দেরিতে সুস্থ হয়।
IBS হলে দেহ মনে কি কি লক্ষন প্রকাশ পেতে পারে
সমগ্র বিশ্বেই এই পেটের এই জটিল পীড়ার প্রকোপ রয়েছে। ইউরুপ বা আমেরিকাতেতে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বিসদৃশ প্যাথি যেমন এলোপ্যাথিতে এই রোগের স্থায়ী কোন চিকিৎসা না থাকায় তাদেরকে সারা জীবন ধরেই ঔষধ খেয়ে খেয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করে যেতে হয়। কেউ কেউ প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে এক সময় সুস্থতা লাভ করে থাকে। এবার আসুন এই সমস্যা হলে কি কি লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায় সেগুলি জেনে নেই।

আইবিএস এর সাধারণ লক্ষণ এবং উপসর্গ 

  • পেটের অস্বস্থি, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা
  • পেটে ভুটভাট শব্দ হওয়া 
  • ক্ষুধা মন্দা হওয়া বা মোটেই না থাকা আবার কখনো অতিরিক্ত ক্ষুধা থাকা
  • গলা বুক জ্বালা ও বমি বমি ভাব
  • ঢেকুর আসা এবং খাওয়ার পর এর তীব্রতা বেড়ে যাওয়া
  • প্রতিনিয়ত গ্যাস হওয়া এবং ঘন ঘন মলদ্বার দিয়ে গ্যাস বের হওয়া
  • ঘন ঘন পাতলা মল কিংবা পানির মতো তরল উদরাময়
  • পায়খানায় যাওয়ার বেগ সামলাতে না পারা এবং মলদ্বারে ব্যথা
  • খাওয়ার পরই টয়লেটের বেগ হওয়া
  • প্রতিবার মলত্যাগের আগে বা পরে এবং মলের সঙ্গে মিউকাস ক্ষরণ
  • কোষ্টবদ্ধ অবস্থায় মলের বেগ না আসা কিংবা খুবই শক্তমল কষ্টে অল্প অল্প বের হওয়া
  • প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, মস্তিষ্ক ক্লান্তি ও কাজের প্রতি অমনোযোগিতা
  •  খিটখিটে মেজাজ, উত্তেজনা, অবসাদ এবং উদ্বিগ্নতা
  • শরীরের ওজন হ্রাস পাওয়া
এই গুলি হল আইবিএস সমস্যার কিছু সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গ যেগুলি অবশ্যই ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হবে তাদের নিজেদের ব্যক্তি স্বাতন্ত্রভেদে। 

আইবিএস এর প্রকৃত লক্ষণ এবং উপসর্গ 

হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য ট্রিটমেন্টে সিস্টেমে শুধু পেটের যন্ত্রনাকেই আইবিএস এর লক্ষণ এবং উপসর্গ হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথি মূলত সম্পূর্ণ মানুষটির লক্ষণ ও উপসর্গকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে কারণ সবকিছু মিলেই কিন্তু একটি মানুষ। মূলত মানুষের ভেতরে থাকা প্রকৃত রোগ বা তার জেনেটিক মেটেরিয়াল মানব দেহ-মনে আইবিএস নামক সমস্যায় যেসকল লক্ষণ এবং উপসর্গ তৈরি করে সেগুলিই হলো এই রোগের জন্য প্রকৃত উপসর্গ তবে সেগুলি ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

মানুষ যখন রোগাক্রান্ত হয় তখন তার শরীরে একটা সার্বিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। আইবিএস এর ক্ষেত্রে পেটের নানারূপ লক্ষণের সাথে আপনার পিপাসা, জিহ্বা, লালা, ক্ষুধা, খাদ্য, ঘুম, স্বপ্ন, ঘাম, পায়খানা, প্রস্রাব ইত্যাদির ক্ষেত্রেও কোন না কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। মূলত সেগুলিও আপনার রোগের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষণ বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু পৃথিবীর কোন চিকিৎসা শাস্ত্রই এই বিষয়গুলি সার্বিক ভাবে পর্যালোচনা করে চিকিৎসা দিতে পারে না, একমাত্র হোমিওপ্যাথি ছাড়া। অন্যান্য সকল চিকিৎসা শাস্ত্র মূলত স্থানিক বা উপরি উপরি চিন্তা করে এই সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করে আর বিফল হয়।
পৃথিবীর একটি মাত্র চিকিৎসা শাস্ত্রই আপনার ভেতরের মানুষটাকে নিয়ে চিন্তা করে আর সেটা হলো - হোমিওপ্যাথি।
হোমিওপ্যাথি যেহেতু মানুষের সার্বিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা করে ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকে তাই প্রকৃত আরোগ্য লাভে কিছুটা সময় লাগলেও অধিকাংশ রোগীরাই নির্মল আরোগ্য লাভ করে বিধায় দেহ-মন সর্বদিক থেকেই সে ভালো থাকে - যাকে বলে সুস্বাস্থ্য।
Read More...

রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২

ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস ও এর ফলে সৃষ্ট সিউডোসিস্ট চিকিৎসা

প্যানক্রিয়াটাইটিস যে সকল জটিলতা সৃষ্টি করতে করে থাকে এর মধ্যে রয়েছে- সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, Pancreatic Pseudocyst সিউডোসিস্টের গঠন, কিডনি বিকল হওয়া, শ্বাসকষ্ট, অগ্ন্যাশয় পাথর বা প্যানক্রিয়াটিক স্টোন, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার ইত্যাদি। এই জটিলতাগুলি সম্পর্কে আপনারা পূর্বের আলোচনা থেকে বিস্তারিত জেনেছেন। যেমনঃ তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস অগ্ন্যাশয়কে সংক্রমণ প্রবণ করে তুলতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলির ক্ষতি করে থাকে, যার ফলে ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা জেগে উঠে।

তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস এর ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপন্ন তরল পদার্থ জমে জমে এই ধরনের সিস্ট তৈরি হয় যাকে সিউডোসিস্ট অর্থাৎ Pancreatic Pseudocyst বলা হয়ে থাকে যা পেটের ওপরের দিকে চাকার মতো অনুভূত হয়। আকারে ৬ সে.মি. এর চেয়ে ছোট হয় যা সাধারণত আপনা আপনি সেরে যায়। তবে যদি একটি বড় সিউডোসিস্ট ফেটে যায়, এটি সংক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটাতে পারে।
Pancreatic pseudocysts are collections of leaked pancreatic fluids. They may form next to the pancreas during pancreatitis.
প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহজনিত কারণে এর সেলগুলো এর নিজস্ব এনজাইম দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিযুক্ত অংশ থেকে প্রায় ২২ রকম এনজাইম নিঃসৃত হয়। স্বভাবিক অবস্থায় এই এনজাইমগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অগ্ন্যাশয়ের কোষের মধ্যে থাকে এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে না পৌঁছা পর্যন্ত সক্রিয় হয় না। এখন উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য অগ্ন্যাশয়ের কোনো অংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা এর নালিগুলোতে চাপবৃদ্ধির ফলে সক্রিয় অগ্ন্যাশয় রস কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়লে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যায়।
Pancreatic Pseudocyst
এনজাইমগুলোর মধ্যে 'ট্রিপসিন' নামক এনজাইমটি এক্ষেত্রে ভাইটাল রুল পালন করে থাকে। এই এনজাইমটি নিজে সক্রিয় হয়ে অন্য ধ্বংসাত্মক এনজাইমগুলোকেও সক্রিয় করে তোলে। শুধু তাই নয়, এই ট্রিপসিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তাকারী কিছু ফ্যাক্টর এবং এনজাইমগুলোকেও সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে অগ্ন্যাশয়ের চার ধরনের পরিবর্তন ঘটে-
  • অগ্ন্যাশয়ের প্রোটিন জাতীয় পদার্থের ক্ষতি সাধন হয় 
  • রক্তনালিতে ক্ষত তৈরি হয়ে পরবর্তীতে রক্তপাত হয়
  • চর্বি জাতীয় পদার্থ ধ্বংস হয় 
  • প্রদাহজনিত পরিবর্তন হয় 
কোনটি বেশি হয় তা নির্ভর করে ক্ষতির ভয়াবহতা এবং কতক্ষণ ধরে তা ঘটেছে তার ওপর। শুধু অগ্ন্যাশয়ের চর্বি নয় এর আশপাশের উদর গহ্বরের চর্বিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি এরপরও রোগী বেঁচে থাকে তবে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ক্ষয়ক্ষতি কমতে থাকে এবং এ ধরনের সিউডোসিস্ট অর্থাৎ Pancreatic Pseudocyst তৈরি হতে পারে। ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস এর ক্ষেত্রেই আমরা এরূপ দেখতে পাই। তাই এর সুচিকিৎসা প্রয়োজন। 

ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস সারানোর হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্য কোন প্যাথিতে ভালো চিকিৎসা নেই। হোমিওপ্যাথিতে এই রোগের বেশ উন্নত ম্যানেজমেন্ট রয়েছে। অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শক্রমে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে প্যানক্রিয়াটাইটিস ধীরে ধীরে ভালো হতে থাকে যার ফলে এই ধরণের সিস্ট আর তৈরী হতে পারে না আর যেগুলি আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকে সেগুলিও মিলিয়ে যেতে থাকে।
পরিশেষে যে কথাটি বলবো, এই রকম বেদনাদায়ক জটিল ব্যাধিতে কেউ আক্রান্ত হোক এটা কারো কাম্য নয়। দুৰ্ভাগ্যবশতঃ যদি কেউ প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং এই সক্রান্ত জটিল পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে কাল বিলম্ব না করে একজন অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন আশা করি সুফল পাবেন। 
এই রোগের হোমিওপ্যাথি ছাড়া উন্নত কোন স্থায়ী ম্যানেজমেন্ট নেই আগেই বলেছি। তাই বাংলাদেশ ভারত কেন সুদূর ইউরুপ আমেরিকাতে গিয়ে এলোপ্যাথিক ডাক্তার দেখালেও কোন সুফল পাবেন না, কথাটি মনে রাখবেন তাতে আপনার অর্থ ও সময় দুটিই বাঁচবে। 

আর যারা সার্জারি নামক চিকিৎসা নিতে যান তারাও একটি ভুল করে থাকেন। কারণ, সার্জারি করে আপনি ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস আদৌ সমাধান করতে পারবেন না। আর সিস্ট সার্জারি করে কেটে ফেলে দিলেও আবার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায় যেহেতু প্যানক্রিয়াটাইটিস ঠিক করা হচ্ছে না। তাছাড়া সার্জারি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। খবরে হয়তো দেখে থাকবেন প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয়ের সিস্ট সার্জারি (তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি এবং তথ্যসূত্র: আর টিভি) করতে গিয়ে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে চলে যেতে হয় অনেক রোগীকেই।
Read More...

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

সার্জারি ছাড়াই পাইলস বা অর্শ রোগ থেকে মুক্তির উপায়

অর্শ বা পাইলস সারানোর উপায় এবং সার্জারী বা অপারেশন ছাড়া পাইলস এর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি এবং সাথে যে জিনিসটি প্রয়োজন সেটি হলো ব্যক্তির জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা। অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে এবং মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে।

অনেকেই অপারেশন করে অর্শ বা পাইলসের বলি অপসারণ বা কেটে ফেলে এর যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে চায় যদিও ৯৮% ক্ষেত্রেই তা সম্ভব নয়। এই সমস্যায় সার্জারী করলেও সেটা আবার হয়ে যায় বহু ক্ষেত্রেই। কারণ অর্শ বা পাইলসের সার্জারী বা অপারেশন হলো একটি সাময়িক চিকিৎসা আদৌ কোন স্থায়ী চিকিৎসা নয়। পাইলসের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, এ রক্ত সাধারণত টাটকা লাল হয়। তাছাড়া মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালা, মলদ্বারে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠা যাকে বলি বলা হয়ে থাকে, যা কখনও কখনও মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়ে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। আর সেটাই কেটে সাময়িক সময়ের জন্য আরাম দেয়া হয়ে থাকে। তবে মলদ্বারে পাইলসের বলি ছাড়া অন্য আর কোন উপসর্গ না থাকলে সেক্ষেত্রে মাত্র ১-২% ক্ষেত্রে এই বলিগুলি কেটে দিলেই পেশেন্ট আরাম পেয়ে যায়।
সব ক্ষেত্রেই সার্জারী বা অপারেশন অর্শ বা পাইলস সারানোর কোন স্থায়ী উপায় নয়। কারণ এখানে মূল রোগটির কোন চিকিৎসা করা হচ্ছে না বরং মূল রোগ কর্তৃক সৃষ্ট একটি উপসর্গের চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাছাড়া এই রকম জটিল সমস্যাগুলির মূলত হোমিওপ্যাথি ছাড়া স্থায়ী কোন চিকিৎসা হয় না। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় রেজাল্ট অফ ডিজিসের চিকিৎসা করা হয় মূল রোগের কোন চিকিৎসাই করা হয় না।
সার্জারি ছাড়াই পাইলস বা অর্শ রোগ থেকে মুক্তির উপায়

সার্জারী বা অপারেশন করলেও অর্শ বা পাইলস আবার হয় কেন?

দেখা যায়, অর্শ বা পাইলস হওয়ার পেছনে বহু দিনের নানা প্রকার পেটের পীড়াকে সাধারণভাবে দায়ী করা হয়ে থাকে যদিও এই রোগ হওয়ার প্রকৃত কারণ হলো রোগীর DNA. বিস্তারিত দেখুন। আপনি বহু দিন যাবৎ পেটের পীড়া যেমন - আমাশয়, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, IBS, IBD ইত্যাদিতে ভুগছেন। আপনার পেটের অসুখ যেমন আমাশয়, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি দীর্ঘদিন থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রেক্টামে বারবার চাপ সৃষ্টি হওয়ার ফলে সেখানে অর্থাৎ মলদ্বারের ভেতর বা বাহিরে শিরা ফুলে অর্শ বা পাইলসের বলি তৈরি হলো আর আপনি সার্জারি করে সেটিকে কেটে ফেলে কিছুটা সময়ের জন্য স্বস্তি পেলেন মাত্র আপনার মূল সমস্যা তো থেকেই গেলো।

অর্থাৎ যেহেতু আপনার পেটের অসুখের স্থায়ী চিকিৎসা না করে একটা লক্ষণ বা উপসর্গের চিকিৎসা করলেন তাই কিছুটা সময় পর আবার আপনার মলদ্বারের ভেতর বা বাহিরে শিরা ফুলে অর্শ বা পাইলসের বলি তৈরি হচ্ছে। গর্ভাবস্থায়ও অর্শ বা পাইলস তৈরী হতে পারে আবার এর কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্তও যেতে পারে।

এখানে মূলত সার্জারী বা অপারেশন অর্শ বা পাইলস সারানোর কোন স্থায়ী উপায় নয় বরং জোড়াতালি মার্কা একটি সাময়িক আরাম দেয়ার চিকিৎসা মাত্র। আপনার পেটের সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা না করা হলে আপনি বার বার অর্শ বা পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। আর এই রকম জটিল রোগ-ব্যাধির মূলত কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় রেজাল্ট অফ ডিজিসের চিকিৎসা করা হয় মূল রোগের কোন চিকিৎসাই করা হয় না। মূল রোগটি থাকে মানুষের DNA এর মধ্যে যা জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ নিয়ে আসে। সেখানে যে True Disease টি প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায় থাকে সেটিই শরীরে নানা প্রকার লক্ষণ ও উপসর্গ তৈরি করে থাকে আর সেই লক্ষণ ও উপসর্গগুলিকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করে থাকে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র। কিন্তু DNA তে বিদ্যমান True Disease কে প্রচ্ছন্ন করার কোন স্থায়ী ম্যানেজমেন্ট হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্য কোন প্যাথিতে নেই।

আর তাই এলোপ্যাথিসহ প্রায় সব বিসদৃশ চিকিৎসায় অর্শ বা পাইলসের মতো সমস্যাগুলি স্থায়ীভাবে ভালো হয় না ৯৫% ক্ষেত্রেই। ৫% ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে চললে কিছুটা সুফল পাওয়া যায় মাত্র। তাছাড়া আপনি হয়তো দেখে থাকবেন, বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা ঔষধ খেয়ে যেতে বলে সারা জীবন ধরে। আর কিছু কিছু সমস্যায় সার্জারী করে রোগ লক্ষণ বা উপসর্গের চিকিৎসা দিয়ে সাময়িক আরাম দেয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে মাত্র, নির্দোষ ভাবে রোগ আদৌ নির্মূল হয় না।

অর্শ বা পাইলসের সার্জারী বা অপারেশন জটিলতাগুলির মধ্যে রয়েছে - ঘন ঘন মল ত্যাগের প্রবৃত্তি সৃষ্টি হওয়া, মলদ্বার ফুটো হয়ে যাওয়া, ইনফেকশন ঝুঁকি ইত্যাদি। তবে পাইলস সার্জারী করার পর সেটি ৯৫% ক্ষেত্রেই আবার হয়ে যায়। অর্থাৎ যেহেতু মূল রোগের চিকিৎসা না করে মূল রোগটি সৃষ্ট একটি লক্ষণ বা উপসর্গের চিকিৎসা করা হচ্ছে তাই DNA তে বিদ্যমান True Disease টি আবার মলদ্বারে সেই লক্ষন ও উপসর্গ তৈরী করে থাকে। আর এই কারণে সার্জারী বা অপারেশন করেও Piles আদৌ সারানো যায় না।

অর্শ বা পাইলস সারানোর স্থায়ী উপায় কি?

বর্তমান বিশ্বে অর্শ বা পাইলস সারানোর একটি স্থায়ী উপায় হলো অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সঠিক চিকিৎসা নেয়া। এই মেথডে চিকিৎসা দিলে বা নিলে যে কারণে পাইলস তৈরি হয়ে থাকে সেটি অর্থাৎ রোগীর DNA তে বিদ্যমান অর্শ বা পাইলসের লক্ষণ সৃষ্টিকারী True Disease টি প্রচ্ছন্ন হয়ে আসে তখন পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, মলদ্বারে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠা, মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালার মতো উপসর্গগুলি স্থায়ী ভাবে দূর হয়ে যায় এবং তা আর ফিরে আসে না। তবে এই সমস্যার চিকিৎসা নিতে হলে আগে আপনাকে রিয়েল হোমিওপ্যাথিতে এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে যিনি ঠিকঠাক ভাবে আপনার কেইস টেকিং করে চিকিৎসা কার্যটি সম্পাদন করতে পারবেন। ধন্যবাদ।

যা যা জেনেছেন

  • পাইলস কি
  • পাইলস এর চিকিৎসা কোথায় ভালো হয়
  • অপারেশন ছাড়া পাইলস এর চিকিৎসা
  • পাইলস অপারেশন
  • পাইলস অপারেশন এর খরচ
  • পাইলস এর চিকিৎসা
  • পাইলস এর ডাক্তার ঢাকা
  • পাইলস সারানোর উপায়
  • পাইলস চিকিৎসা
  • অর্শ রোগের হোমিও ঔষধ
  • piles center dhaka
  • piles doctor specialist
Read More...